শেষ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিব শতবর্ষে “Let’s Start You Up” স্লোগানে শুরু হওয়া ১৪ মাসের “আইডিয়াথন” প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতায় প্রাথমিকভাবে আবেদন জমা পড়ে ৩১৪৭টি। উদ্যোক্তাদের আবেদন গ্রহণের পর প্রথম স্ক্রিনিংয়ে প্রাপ্ত ৩৮৯টি আবেদনের থেকে ২য় স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ১১৮টি আবেদনকে বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন করে ২টি প্যানেলে মোট ২০ জন অভিজ্ঞ বিচারকের মাধ্যমে শীর্ষ ৩০টি দলে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়।
এর পরে, বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি থেকে ৮ জন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৪ জনের সমন্বয়ে গঠিত মোট ১৬ জন সদস্যের একটি অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিচারকদল এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
প্রথম আইডিয়াথন বিজয়ী হলেন যারা
বৃহস্পতিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গেস্ট অব অনার বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউনকে সঙ্গে নিয়ে আইডিয়া একাডেমির থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি ক্রেস্ট ও সনদ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন তিনি। এসময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১২ বছরে দেশের যথাযথ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার কারণে করোনা পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে এবং জিডিপি গ্রোথ ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিনোদন, সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিচারিক কাজ সচল ছিল।
মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগ ১০০টি উদ্যোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর মধ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য “আইডিয়াথন” একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী যাদের বয়স ৩৫ এর নিচে তারাই আমাদের আগামীতে নেতৃত্ব দিবে। এই তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ‘লেবার বেইজড্ ইকোনোমি’ থেকে ‘ডিজিটাল ইকোনমিতে’ পরিবর্তন করতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে- যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।’
বিচারকদের রায়ে আইডিয়াথন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন- এহসান আহমেদ এবং মো: মামুনুর রেজা। এই দুই উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী প্রকল্পের নাম
কৃষিয়ান। হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির এই কৃষি ভিত্তিক উদ্যোগের লক্ষ্য শহরাঞ্চলের প্রত্যেকেই যেন ঘরেই নিজেদের প্রয়োজনীয় সব্জির চাহিদা মেটাতে পারে।

আইডিয়াথনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে চার ছক্কা লিমিটেডের নওরীন হক হৃদি, আসফাকুল আজম, ইয়াসির হাসান টাকি এবং রুকসার আলম। অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর
‘চার ছক্কা সাই’ উদ্ভাবনটির মাধ্যমে হাতের লেখার থ্রিডি সিম্যুলেশন তৈরি করে। ফলে কেউ যদি বিজ্ঞান বা গণিতের কোনো সূত্র লেখা হয় তবে এই সল্যুশনটি তার ফলাফল থ্রিডি আকারে উপস্থাপন করে।

প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকারী এএনটিটি রোবোটিক্স লিমিটেডের তাজিদ ইবনে রউফ উদয়, রাফিদ উদ্দিন ভূইঁয়া নেহাল, নাজিব আহমদ, শুভদ্বীপ দাস এবং সাবাব মাহমুদ।

চতুর্থ
বিজয়ী রক্ষী লিমিটেডের সদস্যরা হলেন- আবরার মাসুম শান্ত, প্লাবন শেখ, আবরার গালিব, মোহাম্মদ ফয়সাল ও ফাহিম হাসনাইন ফাহাদ। তাদের উদ্ভাবনটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা ও এর নিরাপত্তায় প্রযুক্তি নির্ভর একটি সল্যুশন।

পঞ্চম বিজয়ী
‘ছবির বাক্স’ প্রকল্পের বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন আরিফ রহমান, আরাফাত রহমান, ইবনুল ইসলাম, সুমিত আদনান এবং ইমতিয়াজ আহমেদ।
বিজয়ী স্টার্টআপগণ দক্ষিণ কোরিয়াতে ৬ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন, ফান্ডিং, আন্তর্জাতিক পেটেন্টসহ কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক পাবার সহযোগিতা পাবে। বিজয়ী ৫টি স্টার্টআপ টিমের প্রতি টিম হতে ২ জন করে মোট (৫ x ২=১০ জন) দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন। এর আগে, এই কনটেস্টে সেরা ৩০টি টিমই বিশেষ মেন্টরিং গ্রহণ করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ৫ স্টার্টআপ টিমকে সম্মাননা ক্রেস্টসহ বিশেষ সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া, উক্ত আয়োজনে টপ ৩০টি স্টার্টআপকে ক্রেস্টসহ টিমের প্রত্যেক সদস্যকে অর্থাৎ মোট ১১১ জনকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।